“ডাইনী” ,Chapter- 8, Class-9, SEBA
“ডাইনী” ,Chapter- 8, Class-9, SEBA
১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
প্রশ্ন (ক): কীসের প্রভাবে ছাতি-ফাটার মাঠের বীজপ্রসবিনী রসময়ী শক্তি বিনষ্ট হয়েছিল?
উত্তর: কোনো এক অতীতকালে এক মহানাগ সেই মাঠে এসে বসতি করেছিল। তারই বিষের জ্বালায় ছাতি-ফাটার মাঠের বীজপ্রসবিনী রসময়ী শক্তি পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন (খ): ডাইনীটির বাসা কোথায়? সে সমস্ত দিন কী করে?
উত্তর: ডাইনীটির বাসা ছাতি ফাটার মাঠের পূর্বপ্রান্তে দলদলির জলার উপর রামনগরের সাহাদের আমবাগানের মধ্যে একখানা নিঃসঙ্গ মেটে ঘরে। সে সারাদিন ঘরদুয়ার ঠিকঠাক রাখে, কয়েকটি বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে আনে এবং তারপর বাকি সমস্ত দিনটা দাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে বসে ছাতি ফাটার মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে।
প্রশ্ন (গ): কেন এ বৃদ্ধাটিকে ডাইনি বলা হত?
উত্তর: বৃদ্ধাটির দৃষ্টিকে লোকে অলুক্ষণে বলে মনে করত। লোকে বিশ্বাস করত যে তার ‘নজর লেগে’ অন্যের, বিশেষত শিশুদের, অমঙ্গল হয়। এই কারণেই বৃদ্ধাটিকে ডাইনি বলা হত।
প্রশ্ন (ঘ): শৈশবের কোন ঘটনায় তাকে ডাইনি বলে সন্দেহ করা হয়েছিল?
উত্তর: হারু সরকারের ছেলে আম দিয়ে মুড়ি খাচ্ছিল, যা দেখে মেয়েটির লোভ হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই ছেলেটি পেট-ব্যথায় ছটফট করতে শুরু করলে হারু সরকার এসে তাকে ‘নজর’ দেওয়ার অপরাধে “হারামজাদি ডাইনী” বলে অভিযুক্ত করে এবং তার চুলের মুঠি ধরে আছাড় মারে। এটিই ছিল প্রথম ঘটনা যেখানে তাকে ডাইনি বলে সন্দেহ করা হয়।
প্রশ্ন (ঙ): প্রতিবেশীরা ডাইনি সন্দেহে মেয়েটির প্রতি কী ধরনের আচরণ করত?
উত্তর: প্রতিবেশীরা ডাইনি সন্দেহে মেয়েটিকে এড়িয়ে চলত। তাকে ভয়ে ভয়ে ভিক্ষা দিত কিন্তু ঘরের ভেতরে ঢুকতে দিত না। তাকে দেখলেই অনেকে অপমান করত এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে দেখলে ভয়ে পালিয়ে যেত বা কেঁদে উঠত।
প্রশ্ন (চ): কোন বিশেষ ঘটনায় মেয়েটি ডাইনি সন্দেহে গ্রাম ছাড়া হল?
উত্তর: মেয়েটি যখন তার বয়সী সাবিত্রীর সুন্দর ছেলেটিকে দেখতে গিয়েছিল, তখন সাবিত্রীর শাশুড়ি তাকে প্রচণ্ড অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। সেদিন বিকেলেই সাবিত্রীর ছেলেটি ধনুকের মতো বেঁকে গিয়ে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই ঘটনার ফলে তার ‘বিষময়ী দৃষ্টিক্ষুধা’র কলঙ্ক সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ায় সে লজ্জায় ও অপমানে সেই রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল।
প্রশ্ন (ছ): কী করে মেয়েটির নিজেরও বিশ্বাস জন্মাল যে তার দৃষ্টি অলুক্ষণে?
উত্তর: হারু সরকারের ছেলের অসুস্থতার পর সে যখন কেঁদে কেঁদে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো, তখন ছেলেটি বমি করে সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাবিত্রীর ছেলেও ঠিক তাকে দেখার পরই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই কাকতালীয় ঘটনাগুলো বারংবার ঘটায় মেয়েটির নিজেরও বিশ্বাস জন্মেছিল যে তার দৃষ্টি অলুক্ষণে।
প্রশ্ন (জ): হারু সরকারের বাড়ির ঘটনাটি কী? এ জন্যে তার মনে কীরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: হারু সরকারের বাড়ির ঘটনাটি হলো, তার ছেলেকে আম-মুড়ি খেতে দেখে মেয়েটির লোভ লাগার কিছু পরেই ছেলেটি পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর জন্য হারু সরকার মেয়েটিকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে মারধর করে।
এই ঘটনায় মেয়েটি অত্যন্ত লজ্জা ও ভয় পেয়েছিল। সে ঠিক করেছিল যে আর কখনও কোনো গৃহস্থের বাড়ির ভেতরে ঢুকবে না, বাইরে থেকেই ভিক্ষা চাইবে।
প্রশ্ন (ঝ): সাবিত্রীর ছেলেকে দেখতে গিয়ে মেয়েটির কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
উত্তর: সাবিত্রীর ছেলেকে দেখতে গেলে তার শাশুড়ি “হাঁ হাঁ” করে ছুটে এসে তাকে প্রচণ্ড তিরস্কার করে। তিনি বলেন যে বাচ্চার কিছু হলে তিনি মেয়েটিকে ‘বুঝে’ নেবেন এবং তাকে “হারামজাদি” বলে অপমান করে তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
প্রশ্ন (ঞ): গল্পপাঠে তোমার কী মনে হয়- ডাইনি বিষয়টি কী বাস্তব, না এই কুটিল সমাজেরই সৃষ্টি?
উত্তর: গল্পটি পাঠ করে এটা স্পষ্ট যে ডাইনি বিষয়টি বাস্তব নয়, বরং এটি কুটিল সমাজের কুসংস্কারের সৃষ্টি। গল্পের প্রধান চরিত্র ‘সরা’ ছিল একজন অনাথ ও হতভাগিনী মেয়ে। নিছক কিছু কাকতালীয় ঘটনাকে সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ তার ‘কুদৃষ্টি’ বা ‘নজর’ বলে দেগে দেয়। ক্রমাগত সামাজিক বঞ্চনা, ঘৃণা ও অপমান তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং সে নিজেও একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সে ডাইনি। সমাজের এই নির্মম আচরণই তাকে ‘ডাইনি’তে পরিণত করে এবং তার মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ হয়।
২। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
প্রশ্ন (ক): ডাইনি বলে কথিত মেয়েটির নাম কী?
উত্তর: ডাইনি বলে কথিত মেয়েটির নাম সরা।
প্রশ্ন (খ): সে ছাতিফাটার মাঠে কতদিন ধরে কাজ করছে?
উত্তর: সে ছাতিফাটার মাঠের প্রান্তের আমবাগানে চল্লিশ বৎসর ধরে বাস করছে। (গল্পে সে ‘কাজ’ করার বদলে ‘বাস’ করার কথা বলা হয়েছে)।
প্রশ্ন (গ): ছাতিফাটার মাঠকে কেন এ নামে ডাকা হয়?
উত্তর: ছাতি ফাটার মাঠটি হলো এক ছায়াশূন্য দিগন্তবিস্তৃত প্রান্তর। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এই মাঠের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে যেতে গেলে তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে মানুষের মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব নয়। এই কারণেই মাঠটিকে “ছাতি ফাটার মাঠ” বলা হয়।
প্রশ্ন (ঘ): ডাইনির চোখ, জিব আর চুল কীরকম দেখতে?
উত্তর: বৃদ্ধা অবস্থায় ডাইনির চুল ছিল শণের মতো সাদা। তার চোখ দুটি ছিল ক্ষুদ্রায়তন এবং চোখের তারা দুটি ছিল পিঙ্গল বর্ণের। (গল্পে তার জিভের সরাসরি কোনো বর্ণনা দেওয়া নেই)।
প্রশ্ন (ঙ): ভিক্ষা চাইতে গেলে লোকে তাকে কী করত?
উত্তর: ভিক্ষা চাইতে গেলে লোকে তাকে ভয়ে ভয়ে এবং অন্য সাধারণ ভিক্ষুকের তুলনায় বেশি পরিমাণেই ভিক্ষা দিত। তবে তাকে কড়া নজরে রাখত এবং বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিত না।
৩। উত্তর দাও
প্রশ্ন (ক): চৈত্রের দিনটিতে উঠান ঝাড়ু দিতে গিয়ে বৃদ্ধাটির কী হয়েছিল?
উত্তর: চৈত্রের দুপুরে উঠান ঝাড়ু দেওয়ার সময় হঠাৎ বাতাস ওঠে এবং পাতাগুলো সর্পিল ভঙ্গিতে ঘুরপাক খেয়ে উড়তে শুরু করে। মাঠের ধুলোও ঘুরন্ত স্তম্ভ হয়ে উঠতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে বৃদ্ধার মনে এক অদ্ভুত আনন্দ হয় এবং সেও ঝাঁটা হাতে প্রসারিত করে সেই বাতাসের সঙ্গে ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সে টলতে টলতে মাটিতে বসে পড়ে এবং দারুণ তৃষ্ণায় কাতর হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে দাওয়ার দিকে এগোতে থাকে।
প্রশ্ন (খ): সেদিন শিশু কোলে পথহারা মায়ের বৃদ্ধার কুটিরে আগমন ঘটলে কী হয়েছিল?
উত্তর: সেদিন শিশু কোলে এক পথহারা ধূলিধূসর যুবতী বৃদ্ধার কুটিরে এসে জল চাইলে মমতায় বৃদ্ধার মন গলে যায়। মেয়েটি জানায় যে সে তার অসুস্থ মাকে দেখতে বেরিয়ে পথ হারিয়েছে। বৃদ্ধা শিশুটিকে গরমে নেতিয়ে পড়তে দেখে তাড়াতাড়ি তাকে জল দিতে বলে। কিন্তু শিশুটির হৃষ্টপুষ্ট চেহারার দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধার হঠাৎ ভয় হয় যে তার অলুক্ষণে দৃষ্টি বা ‘নজর’ শিশুটির লেগে গেছে। সে আতঙ্কিত হয়ে “খেয়ে ফেললামরে” বলে চিৎকার করে যুবতীকে ছেলে নিয়ে পালিয়ে যেতে বলে। যুবতীটিও বৃদ্ধাকে চিনতে পেরে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে জলের ঘটি ফেলে দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে ছুটে পালিয়ে যায়।
প্রশ্ন (গ): বাউরি ছেলেটির কী হয়েছে? বৃদ্ধা কি সত্যিই তার ক্ষতি চেয়েছিল?
উত্তর: বাউরি ছেলেটির মৃত্যুর খবর রটে যায়। গ্রামে খবর ছড়ায় যে ডাইনি তাকে ‘বাণ মেরেছে’, যার ফলে তার পা দিয়ে রক্তপাত হয়, গায়ে প্রবল জ্বর আসে এবং দেহ ধনুকের মতো বেঁকে গিয়ে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।
না, বৃদ্ধা প্রথমে সত্যিই তার ক্ষতি চায়নি। প্রেমিকার কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ছেলেটির জন্য তার দুঃখ হয়েছিল এবং সে নিজের রূপার চুড়ি ও টাকা দিয়ে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৃদ্ধাকে দেখেই ছেলেটি যখন ভয়ে চিৎকার করে পালাতে শুরু করে, তখন সেই অপমান ও ক্রোধে বৃদ্ধা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে “মর-মর” বলে অভিশাপ দেয়।
প্রশ্ন (ঘ): কোন কোন ঘটনায় ডাইনির মানবিক গুণের প্রকাশ দেখা যায়?
উত্তর: গল্পে একাধিক ঘটনায় ডাইনি বলে কথিত বৃদ্ধাটির মানবিক গুণের প্রকাশ দেখা যায়:
* হারু সরকারের ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে সে আড়ালে গিয়ে কেঁদেছিল এবং ঠাকুরের কাছে তার আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করেছিল।
* সাবিত্রীর শাশুড়ি তাকে অপমান করা সত্ত্বেও সে মনে মনে সাবিত্রীর ছেলের একশ বছর পরমায়ু কামনা করেছিল।
* ছাতি ফাটার মাঠে পথ হারানো তৃষ্ণার্ত মা ও শিশুকে দেখে তার মন মমতায় গলে গিয়েছিল এবং সে তাদের সাহায্যের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
* প্রেমিকার কাছে প্রত্যাখ্যাত বাউরি ছেলেটির দুঃখে সে দুঃখিত হয় এবং তাকে সাহায্য করার জন্য নিজের জমানো টাকা ও রূপার চুড়ি পর্যন্ত দিয়ে দিতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন (ঙ): ডাইনি বলে কথিত বৃদ্ধাটির শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: বাউরি ছেলেটির মৃত্যুর পর বৃদ্ধা রাতের অন্ধকারে কালবৈশাখীর ঝড়ের মধ্যে ছাতি ফাটার মাঠে পালিয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে, ছাতি ফাটার মাঠের প্রান্তে একটি পুরনো কণ্টকাকীর্ণ খৈরি গুল্মের ভাঙা ডালের সুচালো অগ্রভাগে বিদ্ধ অবস্থায় তার মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায়।
৪। দীর্ঘ উত্তর লেখো
প্রশ্ন (ক): ডাইনি প্রথা যে কুটিল সমাজেরই সৃষ্টি এর সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের “ডাইনী” গল্পে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে ডাইনি প্রথা কোনো অলৌকিক বা বাস্তব বিষয় নয়, বরং এটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও কুটিল সমাজেরই সৃষ্টি।
গল্পের প্রধান চরিত্র ‘সরা’ অনাথ এবং হতদরিদ্র ছিল। সমাজে তার কোনো সম্মানজনক আশ্রয় ছিল না। তার খয়রা রঙের চোখ বা কোনো কিছুর প্রতি তার স্বাভাবিক লোভাতুর দৃষ্টিকে সমাজ অশুভ বা ‘অলুক্ষণে’ বলে দেগে দেয়।
হারু সরকারের ছেলের পেটব্যথা বা সাবিত্রীর ছেলের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া—এইসব নিছক কাকতালীয় ঘটনাকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীরা তার ‘নজর’ লাগার ফল বলে ধরে নেয়।
সমাজ তাকে ক্রমাগত ‘ডাইনি’ বলে অপমান করে, তাকে একঘরে করে রাখে এবং তাকে দেখলেই ভয় পায় বা তাড়িয়ে দেয়। এই ক্রমাগত বঞ্চনা, অপমান ও একাকিত্ব তার মানসিক বিকৃতি ঘটায়। একসময় সে নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তার দৃষ্টি অলুক্ষণে এবং তার ভেতরে এক সর্বনাশী লোভাতুর শক্তি আছে।
সুতরাং, ডাইনি কোনো দানবীয় শক্তি নয়। সমাজের কুসংস্কার, ঘৃণা এবং অমানবিক আচরণই একজন সাধারণ, অসহায় মেয়েকে ‘ডাইনী’তে পরিণত করে এবং শেষ পর্যন্ত তার মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ হয়।
প্রশ্ন (খ): বর্তমান কালেও যে ডাইনি প্রথা প্রচলিত এর দৃষ্টান্ত দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যবশত একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান কালেও ডাইনি প্রথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে, প্রচলিত আছে। খবরের কাগজ এবং ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর রিপোর্টে প্রায়শই ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং আসামের মতো রাজ্যগুলিতে ‘ডাইনি’ সন্দেহে মহিলাদের উপর অত্যাচার, শারীরিক নির্যাতন, গ্রাম থেকে বিতাড়ন বা এমনকি হত্যার খবর প্রকাশিত হয়। অনেক সময় এই কুসংস্কারের পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি-সম্পত্তির বিবাদ, বা গ্রামে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাবের মতো কারণগুলি কাজ করে। আসামে এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে ‘প্রজেক্ট প্রহরী’-এর মতো সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানো সত্ত্বেও, আজও বিক্ষিপ্তভাবে এই ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে চলেছে।
প্রশ্ন (গ): চোখের কুদৃষ্টি, নজর লাগা এসবের মধ্যেও যে ডাইনি প্রথার ধারাবাহিকতা রয়েছে এ নিয়ে আলোচনা করো।
উত্তর: ‘ডাইনী’ গল্পের মূল ভিত্তিই হলো ‘নজর লাগা’ বা ‘কুদৃষ্টি’র কুসংস্কার। গল্পে দেখা যায়, মেয়েটির খয়রা রঙের চোখের দৃষ্টিকে লোকে ভয় পেত। সে যখন কোনো কিছুর দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাতো (যেমন হারু সরকারের ছেলের আম-মুড়ি খাওয়া বা সাবিত্রীর হৃষ্টপুষ্ট শিশু), তখনই সেই বস্তুর বা ব্যক্তির অমঙ্গল হতো বলে সমাজে রটে যায়। এই ‘নজর লাগা’র বিশ্বাসই হলো ডাইনি প্রথার মূল ভিত্তি বা প্রাথমিক ধাপ।
সমাজে আজও অনেকে বিশ্বাস করেন যে, কোনো কোনো মানুষের ‘কুদৃষ্টি’ অন্যের, বিশেষত শিশুদের বা ভালো জিনিসের, ক্ষতি করতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ বা কপালে কাজলের টিপ দেওয়ার মতো প্রথার প্রচলন। ‘ডাইনী’ গল্পে এই কুসংস্কারই একজন অনাথ মেয়েকে ‘ডাইনি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার জীবন ধ্বংস করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে ‘নজর লাগা’র মতো আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ কুসংস্কারগুলোই সমাজে ডাইনি প্রথার মতো নির্মম প্রথার ধারাবাহিকতাকে জিইয়ে রাখে।
প্রশ্ন (ঘ): গল্পের মধ্যে সামান্য কয়েকটি লতাগুল্মের, বৃক্ষের আর পক্ষীর নাম আছে, সেগুলো লেখো।
উত্তর: গল্পের মধ্যে উল্লিখিত লতাগুল্ম, বৃক্ষ ও পক্ষীর নাম নিচে দেওয়া হলো:
* লতাগুল্ম ও বৃক্ষ: খৈরী গুল্ম, সেয়াফুল জাতীয় কণ্টক-গুল্ম এবং আম গাছ (আমবাগান)।
* পক্ষী: একটি বিশেষ পাখির নাম উল্লেখ না থাকলেও “চোখ গেল” রবে ডেকে চলা একটি অশ্রান্ত পাখির উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন (ঙ): গল্পের বর্ণনা সাধুভাষায় আর সংলাপ চলতি ভাষায়। উদাহরণ সহ এই পার্থক্য দেখাও।
উত্তর: ‘ডাইনী’ গল্পে লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পের বর্ণনা বা আখ্যানের জন্য সাধুভাষা এবং চরিত্রদের কথোপকথন বা সংলাপের জন্য চলতি ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই রীতিকে ‘চলি-সাধু’র মিশ্রণ বলা হয়।
* সাধুভাষায় বর্ণনার উদাহরণ: “কে কবে নামকরণ করিয়াছিল সে ইতিহাস বিস্মৃতির গর্ভে সমাহিত হইয়া গিয়াছে, কিন্তু নামটি আজও পূর্ণ গৌরবে বর্তমান- ছাতি ফাটার মাঠ।” এই বাক্যে ‘করিয়াছিল’, ‘হইয়া গিয়াছে’, ‘বর্তমান’ ইত্যাদি সাধুভাষার ক্রিয়াপদ ও শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
* চলতি ভাষায় সংলাপের উদাহরণ: “-হারামজাদি ডাইনী, তুমি আমার ছেলেকে নজর দিয়েছ?” অথবা, “-বাবা-মা বিয়ে না দেয়, চল, তোতে আমাতে ভিনগাঁয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার পাতব। তোকে নইলে আমি বাঁচব না।” এই বাক্যগুলিতে ‘দিয়েছ’, ‘দেয়’, ‘চল’, ‘পাতব’, ‘বাঁচব না’ ইত্যাদি চলতি ভাষার ক্রিয়াপদ ও কথ্য ভঙ্গি ব্যবহৃত হয়েছে।
ভাষা বিষয়ক (ব্যাকরণ)
১। বিপরীত শব্দ লেখো
(প্রদত্ত: নীরব-সরব, অসম্ভব-সম্ভব, স্বপ্ন-সত্য, সম্পন্ন-অসম্পন্ন, পুলক-বিষাদ)
* অমঙ্গল – মঙ্গল
* জাগ্রত – ঘুমন্ত / সুপ্ত
* প্রবীণ – নবীন
* পূর্ণিমা – অমাবস্যা
* প্রকাণ্ড – ক্ষুদ্র
* প্রমাণ – অপ্রমাণ
* নিষ্প্রভ – সপ্ৰভ / উজ্জ্বল
* বিশ্বাস – অবিশ্বাস
* বৃদ্ধ – যুবক / তরুণ
* দৃঢ় – শিথিল
২। পদ পরিবর্তন করো
(প্রদত্ত: পাগল-পাগলাটে/পাগলামি, বৈশাখ-বৈশাখি; পরিতৃপ্ত-পরিতৃপ্তি, বিশাল-বিশালতা, অভিনয়-অভিনীত)
* আতঙ্ক (বিশেষ্য) – আতঙ্কিত (বিশেষণ)
* নীরব (বিশেষণ) – নীরবতা (বিশেষ্য)
* নিশ্চয় (অব্যয়/বিশেষণ) – নিশ্চিত (বিশেষণ) / নিশ্চয়তা (বিশেষ্য)
* পুলক (বিশেষ্য) – পুলকিত (বিশেষণ)
* প্রতাপ (বিশেষ্য) – প্রতাপী (বিশেষণ)
* অনুমান (বিশেষ্য) – অনুমিত (বিশেষণ)
* চক্ষু (বিশেষ্য) – চাক্ষুষ (বিশেষণ)
* রক্ত (বিশেষ্য) – রক্তাক্ত (বিশেষণ) / রক্তিম (বিশেষণ)
* বিশ্বাস (বিশেষ্য) – বিশ্বাসী (বিশেষণ) / বিশ্বস্ত (বিশেষণ)
* শঙ্কা (বিশেষ্য) – শঙ্কিত (বিশেষণ)
৩। প্রত্যয় কাকে বলে? প্রত্যয় কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার প্রত্যয়ের সংজ্ঞা লেখো এবং তিনটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর:
* প্রত্যয়: শব্দ বা ধাতুর উত্তর বিশেষ অর্থে যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।
* প্রকারভেদ: প্রত্যয় দুই প্রকার। যথা:
১। কৃৎ প্রত্যয়
২। তদ্ধিত প্রত্যয়
* কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর উত্তর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
* উদাহরণ:
* পড়্ + আ = পড়া
* চল্ + অন্ত = চলন্ত
* নাচ্ + অন = নাচন
* তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের উত্তর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
* উদাহরণ:
* ঢাকা + আই = ঢাকাই
* দোকান + ঈ = দোকানী
* দাঁত + আল = দাঁতাল
৪। প্রত্যয় নির্ণয় করো।
(অনুশীলনীতে এই অংশের উত্তরগুলি দেওয়াই আছে, সেগুলি নিচে তুলে ধরা হলো)
* বাংলা (কৃৎপ্রত্যয়):
* চলন্ত = চল্ + অন্ত
* নাচন = নাচ্ + অন
* রান্না = রাঁধ্ + না
* ধরনা = ধর্ + না
* চালুনি = চাল্ + উনি
* করা = কর্ + আ
* সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
* কর্তৃব্য = কৃ + তব্য
* বক্তব্য = বচ্ + তব্য
* দর্শনীয় = দৃশ + অনীয়
* গন্তব্য = গম্ + তব্য
* দর্শন = দৃশ + অনট্
