“আমাদের চারপাশের বস্তুসমূহ” , Chapter -5, Science, Class-6 ,SEBA
প্রশ্নাবলি
১. শূন্যস্থান পূর্ণ করো
(a) চুম্বকে আকর্ষণ করা পদার্থকে চুম্বকীয় পদার্থ বলে।
(b) বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তৈরি করা চুম্বককে কৃত্রিম চুম্বক বলা হয়।
(c) রাবার চুম্বকীয় পদার্থ নয়।
(d) যদি আমরা একটি দণ্ড চুম্বককে সমান দুটি ভাগে ভাগ করি তবে আমরা দুটো চুম্বক পাই।
(e) দুটি চুম্বকের একই মেরু একে অপরকে বিকর্ষণ করে।
(f) একটি চুম্বকের সর্বদা দুই টি মেরু থাকে।
২. সঠিক উক্তিগুলোর জন্য (✔) চিহ্ন দাও।
(a) চুম্বক সব ধরনের বস্তুকে আকর্ষণ করে। ☐
(b) চুম্বকের বিপরীত প্রান্তের মধ্যে আকর্ষণ হয়। ☑
(c) কোবাল্ট একটি চুম্বকীয় পদার্থ। ☑
(d) একটি দণ্ড চুম্বক সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে। ☑
(e) গরম করলে একটি চুম্বক তার চুম্বকত্ব হারায়। ☑
৩. ‘ক’ স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও।
(1) কম্পাস – স্থির অবস্থায় উত্তর-দক্ষিণ মুখী হয়ে থাকে
(2) লোহার পেরেক – চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়
(3) ম্যাগনেটাইট – প্রথম চুম্বক আবিষ্কৃত হয়
(4) স্থায়ী চুম্বক – চুম্বকত্ব দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকে
এবং নিচের অংশটি—
উত্তর–উত্তর – বিকর্ষণ
উত্তর–দক্ষিণ – আকর্ষণ
দক্ষিণ–উত্তর – আকর্ষণ
দক্ষিণ–দক্ষিণ – বিকর্ষণ
৫. সঠিক উত্তরের গোলটি সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ করো:
i) নীচের কোন্টি চুম্বকীয় পদার্থ?
(a) আলপিন
(b) রাবার
(c) প্লাস্টিকের চুড়ি
(d) প্লাস্টিকের স্কেল
উত্তর: (a) আলপিন
ii) নীচের কোন্টি অচুম্বকীয় পদার্থ?
(a) লোহার পেরেক
(b) রাবার ব্যান্ড
(c) সেফটিপিন
(d) আলপিন
উত্তর: (b) রাবার ব্যান্ড
iii) একটি চুম্বকের কয়টি মেরু আছে?
(a) দুটি
(b) একটি
(c) তিনটি
(d) চারটি
উত্তর: (a) দুটি
৬. যদি একটি দণ্ড চুম্বককে লোহার গুঁড়োর কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়, তাহলে চুম্বকের কোন্ অংশে লোহার গুঁড়ো কম পরিমাণে লেগে থাকবে?
উত্তর: একটি দণ্ড চুম্বকের দুই প্রান্তে (মেরুতে) আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি থাকে এবং মাঝের অংশে আকর্ষণ বল সবচেয়ে কম থাকে। তাই, দণ্ড চুম্বককে লোহার গুঁড়োর কাছাকাছি আনলে চুম্বকটির মাঝের অংশে লোহার গুঁড়ো সবচেয়ে কম পরিমাণে লেগে থাকবে।
৭. একটি বার চুম্বকের মেরু দুইটি চিহ্নিত করা হয়নি। তুমি কীভাবে চুম্বকটির উত্তর মেরুটি নির্ধারণ করবে?
উত্তর: চুম্বকটির উত্তর মেরু নির্ধারণ করার জন্য, সেটিকে মাঝখানে একটি সুতো দিয়ে বেঁধে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এটির কাছাকাছি যেন অন্য কোনো চুম্বক বা চুম্বকীয় পদার্থ না থাকে। চুম্বকটি স্থির অবস্থায় এলে এটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকবে। চুম্বকের যে প্রান্তটি উত্তর দিক নির্দেশ করবে, সেটিই হলো চুম্বকটির উত্তর মেরু (N)।
৮. চুম্বকের মেরু দুটো কি পৃথক করা যায়?
উত্তর: না, চুম্বকের মেরু দুটো পৃথক করা যায় না। একটি চুম্বককে ভেঙে টুকরো করলেও, প্রতিটি টুকরো একটি সম্পূর্ণ চুম্বক হিসেবে কাজ করে, যার একটি উত্তর মেরু এবং একটি দক্ষিণ মেরু থাকে। কখনই একক মেরুযুক্ত চুম্বক পাওয়া সম্ভব নয়।
৯. চুম্বকের যে-কোনো দুটো ধর্ম লেখো।
উত্তর: চুম্বকের দুটি প্রধান ধর্ম হলো:
১. আকর্ষণ ধর্ম: চুম্বক লোহা, নিকেল, কোবাল্টের মতো চুম্বকীয় পদার্থকে আকর্ষণ করে।
২. দিকদর্শী ধর্ম: একটি চুম্বককে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিলে তা সর্বদা স্থির অবস্থায় উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে।
১০. তুমি কীভাবে একটি লোহার পেরেককে চুম্বকে পরিণত করবে?
উত্তর: একটি লোহার পেরেককে চুম্বকে পরিণত করার পদ্ধতি (ক্রিয়াকলাপ ৪.৭ অনুযায়ী):
১. প্রথমে পেরেকটিকে একটি কাঠের টেবিলের ওপর রাখতে হবে।
২. একটি শক্তিশালী দণ্ড চুম্বকের যেকোনো একটি মেরু (ধরা যাক, উত্তর মেরু) পেরেকের এক প্রান্তে রাখতে হবে।
৩. এরপর চুম্বকটিকে না তুলে, পেরেকটির ওপর দিয়ে ঘষে অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে হবে।
৪. চুম্বকটি তুলে নিয়ে আবার পেরেকের প্রথম প্রান্ত থেকে একই দিকে ঘষা শুরু করতে হবে।
৫. এইভাবে ৩০-৪০ বার একই দিকে (বিপরীত দিকে নয়) ঘষলে পেরেকটি একটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হবে।
১১. মুক্তভাবে ঝুলিয়ে রাখলে একটি দণ্ড চুম্বক উত্তর-দক্ষিণমুখী হয়ে থাকে কেন?
উত্তর: আমাদের পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল দণ্ড চুম্বকের মতো আচরণ করে। এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু পৃথিবীর ভৌগোলিক উত্তর দিকে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু পৃথিবীর ভৌগোলিক দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। যেহেতু চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, তাই মুক্তভাবে ঝুলন্ত দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরুটি পৃথিবীর উত্তর দিককে (যা ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু) এবং দণ্ড চুম্বকের দক্ষিণ মেরুটি পৃথিবীর দক্ষিণ দিককে (যা ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু) নির্দেশ করে। এই কারণেই এটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণমুখী হয়ে থাকে।
১২. কম্পাসের সাহায্যে কীভাবে দিক নির্ণয় করা যায়?
উত্তর: কম্পাস হলো একটি ছোট বাক্স যার মধ্যে একটি শলাকা আকৃতির চুম্বক থাকে, যা মুক্তভাবে ঘুরতে পারে।
১. কম্পাসটিকে কোনো সমতল জায়গায় স্থিরভাবে রাখলে, তার চুম্বক শলাকাটি ঘুরে সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে।
২. সাধারণত শলাকাটির উত্তর মেরুটি লাল রঙ বা অন্য কোনো চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে।
৩. ওই চিহ্নিত প্রান্তটি উত্তর দিক নির্দেশ করলে, তার বিপরীত দিকটি দক্ষিণ দিক হিসেবে চেনা যায়।
৪. উত্তর ও দক্ষিণ দিক জানা গেলে, তা থেকে সহজেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিক নির্ধারণ করা যায়। এভাবেই নাবিকরা বা ভ্রমণকারীরা দিক নির্ণয় করেন।
১৩. ঘোড়ার নাল আকৃতি চুম্বকের মেরু দুইটি কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
উত্তর: ঘোড়ার নাল আকৃতির চুম্বকের মেরু দুটি শনাক্ত করার উপায়:
১. মেরুর অবস্থান: চুম্বকটির কাছে লোহার গুঁড়ো বা আলপিন আনলে দেখা যাবে, চুম্বকটির দুই প্রান্তেই লোহার গুঁড়ো বা আলপিন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আটকে আছে। এই দুটি প্রান্তই হলো চুম্বকটির মেরু।
২. মেরুর প্রকৃতি (N/S): মেরু দুটি চেনার জন্য (অর্থাৎ কোনটি উত্তর ও কোনটি দক্ষিণ), একটি চিহ্নিত দণ্ড চুম্বক বা একটি কম্পাস ব্যবহার করতে হবে। ধরা যাক, কম্পাসের উত্তর মেরুটি (লাল কাঁটা) ঘোড়ার নালের একটি প্রান্তের কাছে আনা হলো। যদি কম্পাসের উত্তর মেরুটি বিকর্ষিত হয়, তবে ঘোড়ার নালের ওই প্রান্তটি উত্তর মেরু। আর যদি আকর্ষিত হয়, তবে ওই প্রান্তটি দক্ষিণ মেরু।
১৪. তোমাকে একটি দণ্ড চুম্বক, একটি ছোটো প্লাস্টিকের স্কেল, একটি কাঠের টুকরো এবং একটি পেরেক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোন্টিকে তুমি চুম্বকে পরিণত করতে পারবে এবং কীভাবে? চুম্বকে পরিণত হয়েছে কি না সেটি তুমি কীভাবে বুঝবে?
উত্তর:
* কোন্টিকে: দেওয়া বস্তুগুলির মধ্যে শুধুমাত্র পেরেকটিকে (যা লোহা দিয়ে তৈরি) চুম্বকে পরিণত করা যাবে, কারণ লোহা একটি চুম্বকীয় পদার্থ। প্লাস্টিকের স্কেল বা কাঠের টুকরো অচুম্বকীয় পদার্থ, এদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না।
* কীভাবে: পেরেকটিকে একটি দণ্ড চুম্বকের যেকোনো একটি মেরু দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বারবার একই দিকে (৩০-৪০ বার) ঘষে চুম্বকে পরিণত করা যাবে।
* কীভাবে বুঝবে: পেরেকটি চুম্বকে পরিণত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য, সেটিকে কয়েকটি আলপিন বা লোহার গুঁড়োর কাছে আনতে হবে। যদি পেরেকটি আলপিন বা লোহার গুঁড়োকে আকর্ষণ করে, তবে বোঝা যাবে এটি চুম্বকে পরিণত হয়েছে।
১৫. তোমাকে একটি দণ্ড চুম্বক এবং কিছু আলপিন দেওয়া হলো। তুমি কীভাবে দুটি মেরু নির্ধারণ করবে?
উত্তর: দণ্ড চুম্বকটিকে কিছু আলপিনের মধ্যে রাখলে বা আলপিনের ওপর দিয়ে ঘোরালে দেখা যাবে, চুম্বকটির দুটি নির্দিষ্ট প্রান্তে (মাথার দিকে) আলপিনগুলো সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আটকে আছে। চুম্বকটির মাঝের অংশে তুলনামূলকভাবে কম আলপিন লাগবে। যে দুটি প্রান্তে আলপিন সবচেয়ে বেশি আটকেছে, সেই প্রান্ত দুটিই হলো চুম্বকটির মেরু।
১৬. তোমাকে একটি দণ্ড চুম্বক এবং একটি কম্পাস দেওয়া হয়েছে। মেরুগুলি চুম্বকের উপর চিহ্নিত করা হয়নি। কম্পাসের সাহায্যে চুম্বকের মেরুগুলোকে কীভাবে চিহ্নিত করবে?
উত্তর:
১. প্রথমে কম্পাসটিকে একটি কাঠের টেবিলে স্থিরভাবে রাখতে হবে যতক্ষণ না এর শলাকাটি উত্তর-দক্ষিণ দিকে স্থির হয়। কম্পাসের চিহ্নিত কাঁটাটি (সাধারণত লাল) উত্তর মেরু (N) নির্দেশ করবে।
২. এবার, দণ্ড চুম্বকটির একটি প্রান্ত কম্পাসের উত্তর মেরুর (লাল কাঁটা) কাছে আনতে হবে।
৩. যদি কম্পাসের উত্তর মেরুটি বিকর্ষিত হয় (দূরে সরে যায়), তবে দণ্ড চুম্বকের ওই প্রান্তটি হলো উত্তর মেরু (N) (কারণ সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে)।
৪. যদি কম্পাসের উত্তর মেরুটি আকর্ষিত হয় (কাছে সরে আসে), তবে দণ্ড চুম্বকের ওই প্রান্তটি হলো দক্ষিণ মেরু (S) (কারণ বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে)।
অন্য প্রান্তটিও একইভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
১৭. স্টিলের তৈরি একটি সুচ মেঝেতে পড়ে আছে। তুমি এটি তোমার হাত দিয়ে তুলতে পারছ না। কীভাবে তুমি সুচটি ওপরে তুলতে পারবে?
উত্তর: স্টিল একটি চুম্বকীয় পদার্থ (ইস্পাত)। তাই, একটি চুম্বক ব্যবহার করে সুচটিকে সহজে ওপরে তোলা যাবে। চুম্বকটি সুচের কাছে আনলে তা সুচটিকে আকর্ষণ করবে এবং সুচটি চুম্বকের গায়ে লেগে যাবে, ফলে তা তোলা সহজ হবে।
১৮. মনে করো তুমি একটি নতুন জায়গায় যাচ্ছো। তোমার সাথে একটি কম্পাস আছে। তুমি কীভাবে জায়গাটির দিক নির্ধারণ করবে?
উত্তর: নতুন জায়গায় দিক নির্ধারণের জন্য কম্পাসটিকে প্রথমে একটি সমতল জায়গায় স্থিরভাবে রাখতে হবে। কম্পাসের কাঁটাটি স্থির হলে, তার চিহ্নিত প্রান্তটি (সাধারণত লাল) উত্তর দিক নির্দেশ করবে। উত্তর দিক জানা গেলে, তার ঠিক বিপরীত দিকটি দক্ষিণ দিক, ডান দিকের সমকোণে থাকা দিকটি পূর্ব দিক এবং বাম দিকের সমকোণে থাকা দিকটি পশ্চিম দিক হিসেবে সহজেই চিনে নেওয়া যাবে।
