কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
ক। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (Answer in very brief):
১। কম্পিউটারের প্রাক-পুরাতন প্রাজ্ঞ প্রপিতামহ হিসেবে কোন যন্ত্রটিকে গণ্য করা যায়?
Ans.কম্পিউটারের প্রাক-পুরাতন প্রাজ্ঞ প্রপিতামহ হিসেবে অ্যাবাকাস যন্ত্রটিকে গণ্য করা যায়। এটি ছিল প্রাচীন কালের গণনা করার একটি যন্ত্র, যা আধুনিক কম্পিউটারের প্রথম ধারণাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিল।
২। কোন বিজ্ঞানীকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়?
Ans.কম্পিউটারের জনক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)। তিনিই প্রথম আধুনিক কম্পিউটারের নকশা প্রণয়ন করেন এবং তাঁর এই উদ্ভাবনই পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির জগতে বিপ্লব আনে।
৩। কম্পিউটার সাধারণ ভাবে কী কী কাজ করে?
Ans.কম্পিউটার নানা ধরনের কাজ করতে পারে। এটি অঙ্ক কষতে, ছবি আঁকতে, লিখতে, ছাপাতে এবং বিভিন্ন ধরণের সংগীত বা শব্দ (টুং টাং, ঝিং ঝিং) শোনাতে সক্ষম।
৪। আমাদের দেশে এই যন্ত্রটি কবে জনপ্রিয়তা লাভ করে?
Ans.পাঠ্যাংশে এই যন্ত্রটি কবে জনপ্রিয়তা লাভ করে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে লেখক উল্লেখ করেছেন যে গত শতকের সাতের দশকে তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রথমবারের মতো এই আশ্চর্য যন্ত্রটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
৫। আধুনিক পৃথিবীকে কম্পিউটার কী পরিচিতি দান করেছে?
Ans.আধুনিক পৃথিবীকে কম্পিউটার ‘ডিজিট্যাল ওয়ার্ল্ড’ বা ‘ডিজিট্যাল পৃথিবী’-র পরিচিতি দান করেছে, যা আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার প্রতীক।
—
খ। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (Brief Answers):
১। এ মুহূর্তে জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের অনুপ্রবেশ ঘটেছে?
Ans.বর্তমান সময়ে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। শহর, নগর, বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের প্রাত্যহিক জীবনের চৌহদ্দিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। উচ্চতর গবেষণাগার, কল-কারখানা, যানবাহন, স্কুল, কলেজ পেরিয়ে এখন এটি পাড়ার ক্লাব, কমিউনিটি হল এমনকি মুদির দোকান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আজকের দিনে সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে স্মার্টফোন পর্যন্ত সবই কম্পিউটারভিত্তিক যন্ত্র, যা আমাদের পকেটেও স্থান করে নিয়েছে।
২। কম্পিউটারের কোন জিনিসগুলো সম্পর্কে আমরা একেবারেই অচেতন?
Ans.আমরা অধিকাংশ মানুষই কম্পিউটারের অসীম সম্ভাবনার দিক সম্পর্কে অচেতন। সাধারণত কম্পিউটারকে আমরা নিছক একটি টাইপ রাইটার, জেরক্স মেশিন বা সাউন্ড বক্স হিসেবে দেখি। অথচ আমাদের কম্পিউটারেই থাকা “বাংলা ইন্সক্রিপ্ট” নামক এক মূল্যবান ব্যবস্থার কথা আমরা জানি না, এমনকি সেটি আমরা কখনও খুলেও দেখি না।
৩। কম্পিউটার কি সত্যিই আমাদের কর্মদক্ষতা বাড়িয়েছে?
Ans.লেখকের মতে, কম্পিউটার সত্যিই আমাদের কর্মদক্ষতা বাড়িয়েছে কিনা তা সন্দেহজনক। কারণ, এই যন্ত্রটির ভেতরে নির্ভুল কাজের সমস্ত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও অফিসে কাজের গতি তেমন বাড়েনি; বরং কাজের পাহাড় বেড়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মার্কশিটে নাম ও সংখ্যার ভুল হয়, হাসপাতালের রিপোর্টে ভুল দেখা যায়, টেলিফোন ও বিদ্যুতের রিডিঙে ভুল হয়, এমনকি মুদ্রণ ও পাঠ্যপুস্তকেও নানা ত্রুটি রয়ে যায়।
৪। কম্পিউটারে কাজের সঙ্গে কী অকাজের বন্দোবস্ত করা আছে?
Ans.কম্পিউটারে কাজের অসীম সম্ভাবনার পাশাপাশি অকাজেরও অঢেল সুযোগ রয়েছে। বিশেষত কিশোর পড়ুয়াদের জন্য এটি এক প্রকার প্রলোভনের ক্ষেত্র। বিনোদনের ছদ্মবেশে এতে অপজ্ঞান ও ট্র্যাস ইনফরমেশনের বিস্তার ঘটে, যা মস্তিষ্ককে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ইন্টারনেট ছাত্রদের নিশ্চেষ্ট করে দিয়ে তাদের সৃজনশীলতা ও জ্ঞান আহরণের মাধুর্য নষ্ট করে দেয়। তাছাড়া হিংস্র ও বিকট শব্দময় বিনোদনও তাদের কুপ্রভাবিত করে, যা মননশীল বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
৫। আমাদের শিশু কিশোর পড়ুয়ারা কেন কম্পিউটারকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারে না?
Ans.আমাদের শিশু-কিশোর পড়ুয়ারা কম্পিউটারকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারে না, কারণ তারা বিনোদনের ছদ্মবেশে থাকা অপজ্ঞান, অসত্য তথ্য এবং নিধনের খেলার দিকে আকৃষ্ট হয়। তারা ‘গুগুল সব জানে’ বিশ্বাস করে এর উপর নিঃশর্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে অর্জনের অভিঘাত, জ্ঞান আহরণের আনন্দ ও সৃজনশীল অনুভূতি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। তারা মন খুলে চিন্তা না করে, শুধু ইন্টারনেটের তথ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
৬। ইন্টারনেটের বাংলা প্রতিশব্দ কী?
Ans.ইন্টারনেটের বাংলা প্রতিশব্দ হলো ‘আন্তর্জাল’। এটি এমন এক বিশ্বব্যাপী সংযোগব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগ আজ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মুহূর্তেই সম্ভব।
৭। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে কি মাতৃভাষায় কাজ খুব কঠিন?
Ans.না, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে মাতৃভাষায় কাজ করা মোটেও কঠিন নয়। লেখক দেখিয়েছেন যে কম্পিউটারে “বাংলা ইন্সক্রিপ্ট” ব্যবস্থার মাধ্যমে ফনেটিক বা উচ্চারণনির্ভর উপায়ে খুব সহজে এবং বিনামূল্যে বাংলায় লেখা সম্ভব। শুধু ওয়ার্ড নয়, ই-মেল, ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদিতেও এই পদ্ধতিতে মাতৃভাষায় কাজ করা যায়।
৮। কম্পিউটারকে একটি মুক্ত বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় বলার যুক্তি কী?
Ans.ইন্টারনেটের সংযোগে কম্পিউটার এখন এক মুক্ত বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। একটি ক্লিকের মাধ্যমে ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ভূগোলসহ সব বিষয়ের জ্ঞান এতে সহজলভ্য। এটি শুধু শিক্ষার নয়, বরং এক মুক্ত বাজারও, যেখানে কেউ ক্রেতা আবার বিক্রেতাও হতে পারে। কেউ চাইলে ব্লগ তৈরি করে নিজের লেখা প্রকাশ করতে পারে, নিজেই সম্পাদক, প্রকাশক ও পরিবেশক হতে পারে। এমনকি বই লিখে ছাপাখানা ছাড়াই অনলাইনে প্রকাশ করা সম্ভব—সবই এক টেবিলের সামনে বসে করা যায়।
৯। মুনীর অপটিমা কী?
Ans.মুনীর অপটিমা হলো বাংলা লিখনকর্মের আদি কিবোর্ড, যা ১৯৬৫ সালে তৈরি হয়। এটি অধ্যাপক ভাষাবিজ্ঞানী মুনীর চৌধুরীর নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলা টাইপিংয়ের ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
১০। যে দুজন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামী ভাষা বিজ্ঞানী কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের বাংলা প্রয়োগে বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁদের নাম করো।
Ans.বাংলাদেশের যে দুজন মুক্তি সংগ্রামী ভাষাবিজ্ঞানী কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে বাংলা প্রয়োগে বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাঁরা হলেন অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও অধ্যাপক মুস্তাফা জব্বার। মুনীর চৌধুরী ‘মুনীর অপটিমা’ কিবোর্ডের উদ্ভাবক এবং মুস্তাফা জব্বার ‘বিজয় বাংলা কী বোর্ড ও সফটওয়্যার’-এর প্রবর্তক হিসেবে বাংলা কম্পিউটিংকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।
—
গ। অনুশীলন করো (Practice):
১। তোমরা বন্ধুরা মিলে কাঠ দিয়ে একটা অ্যাবাকাস যন্ত্র বানানোর চেষ্টা করো।
এটি হাতে-কলমে করার একটি কাজ। কাঠ, তার ও মণি ব্যবহার করে একটি প্রাচীন গণনা যন্ত্র অ্যাবাকাস তৈরি করা যেতে পারে, যা কম্পিউটারের ইতিহাসের সূচনাকে বোঝায়।
২। কয়েকটি সুন্দর বাংলা সফটওয়্যারের নাম বলো।
আন্তর্জালে বাংলা ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে Ans.ব্যবহারবান্ধব সফটওয়্যার হলো ‘অভ্র’। এর পাশাপাশি ‘বিজয় বাংলা কী বোর্ড ও সফটওয়্যার’ এবং বাংলা লিখনের আদিপর্বের ‘মুনীর অপটিমা কী বোর্ড’-এর কথাও উল্লেখযোগ্য।
