আমার ছেলেবেলা, Chapter -12,Class -7, SEBA

আমার ছেলেবেলা, Chapter -12,Class -7, SEBA

পাঠ-১২
আমার ছেলেবেলা
– আশাপূর্ণা দেবী
নিচে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনী বা ক্রিয়াকলাপের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো দেওয়া হলো:
ক- পাঠভিত্তিক ক্রিয়া
৩। উত্তর বলো ও লেখো:
প্রশ্ন (ক): কোন বিষয়ের প্রতি লেখিকার দুর্বলতা ছিল? তখন সেই বিষয়টির দাম কত ছিল?
উত্তর: রুলটানা খাতার প্রতি লেখিকার দারুণ দুর্বলতা ছিল। তখন সেই রুলটানা খাতা দু’আনায় দু’খানা পাওয়া যেত। 
প্রশ্ন (খ): লেখিকার ছোটোবেলায় কী-কী ছিল না?
উত্তর: লেখিকার ছোটোবেলায় বাস, ফাউন্টেন পেন, ডট পেন, প্লাস্টিক, পলিথিন, নাইলন, টেরিলিন, টেরিকট, হাওয়াই চটি এবং ফুচকা-গোলগাপ্পা ইত্যাদি ছিল না। 
প্রশ্ন (গ): ছোটোবেলায় লেখিকা পালা-পার্বণগুলোকে কীভাবে উপভোগ করতেন?
উত্তর: ছোটোবেলায় লেখিকা পালা-পার্বণগুলোতে খুব আনন্দ করতেন। পূজার দিনে বাসন্তী রঙের কাপড় পরতেন। পার্বণের প্রধান আনন্দ ছিল বড়দের কাছ থেকে একটি করে চকচকে রুপোর দুয়ানি (দুই আনা) পাওয়া। সেই পয়সা দিয়ে ক্ষীরের পুতুল, গোলাপি রেউড়ি বা কাঁচকড়ার পুতুল কিনবেন, নাকি অন্য কিছু—তা নিয়ে বোনেদের সাথে পরামর্শ করতেন। 
প্রশ্ন (ঘ): লেখিকার প্রথম স্নেহের উপহার কী ছিল?
উত্তর: লেখিকার পাওয়া প্রথম স্নেহের উপহার ছিল শক্ত মলাটের ইয়া মোটকা একখানা রুলটানা খাতা। 
প্রশ্ন (ঙ): সে উপহার তাঁকে কে দিয়েছিলেন এবং কেন দিয়েছিলেন?
উত্তর: সেই উপহারটি লেখিকাকে তাঁর সেজদা (সেজ দাদা) দিয়েছিলেন। লেখিকা সেজদার একখানা হারানো বই খুঁজে দিয়েছিলেন, সেই কাজের পুরস্কারস্বরূপ তিনি খাতাটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। 
প্রশ্ন (চ): সরস্বতী পুজোর দিন লেখিকার মনে কোন কোন বিষয়কে নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করত?
উত্তর: সরস্বতী পুজোর দিন বাসন্তী রঙের কাপড় পরা নিয়ে লেখিকার মনে খুব উত্তেজনা কাজ করত। এছাড়া পুজোর আগে যেন ভুল করে কুল খেয়ে না ফেলেন সেই চিন্তা এবং পুজোর দিনে পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা—এই বিষয়গুলো নিয়েও উত্তেজনা থাকত। 
প্রশ্ন (ছ): ‘সেই আনন্দ বড়ো সুখের’ এ কথা কে বলেছেন? কখন বলেছেন? সেই আনন্দ তাঁদের কাছে সুখের ছিল কেন?
উত্তর: এ কথা লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী বলেছেন। সরস্বতী পূজার আগের রাত্রে যখন ক্যালেন্ডার বা বইপত্র উলটে রাখা হতো যাতে গায়ে পা না লাগে, সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন। নিষ্ঠার সাথে এই নিয়ম পালন করার মধ্যে এক ধরণের পবিত্র ভক্তি ও তৃপ্তি ছিল বলে সেই আনন্দ তাঁদের কাছে সুখের ছিল। 
৪। পাঠ থেকে শব্দ খুঁজে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
তারপর তো জীবনে কতই প্রাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু জীবনে সেই প্রথম উপহার, যা কেউ আমার মনটা বুঝে নিয়ে দিয়েছে, তার কি তুলনা হয়! 
৫। নীচের বাক্যগুলোর তাৎপর্য বুঝে লেখো:
প্রশ্ন (ক): কেন যে ‘ভাল্লাগছে না’ তা হয়ত তোমরা নিজেরাই জাননা।
উত্তর: বর্তমানে শিশুদের কাছে অনেক সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদনের উপকরণ থাকা সত্ত্বেও তারা প্রায়ই অকারণে বিষণ্ণতায় ভোগে বা কোনো কিছুতে আগ্রহ পায় না। লেখিকা মনে করেন, আশেপাশের মানুষের মুখে নেতিবাচক কথা শুনতে শুনতে এবং অতিরিক্ত প্রাচুর্যের কারণে ছোটদের মনে এই ‘ভালো না লাগা’র রোগ বাসা বেঁধেছে।
প্রশ্ন (খ): ‘দুয়ানি’, সেটাই তখন রাজ ঐশ্বর্য।
উত্তর: লেখিকার ছোটবেলায় টাকার মান অনেক বেশি ছিল এবং শিশুদের হাতে সচরাচর টাকা দেওয়া হতো না। তাই পার্বণের সময় বড়দের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি মাত্র দুয়ানি (দুই আনা পয়সা) পেলেই তারা নিজেদের রাজার মতো ধনী মনে করতেন, কারণ সেই সামান্য পয়সা দিয়ে তখন অনেক শখের জিনিস কেনা যেত। 
৬। সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো:
“ভালোবাসাকে বুঝতে পারা, স্নেহকে অনুভব করা, এটা ছিল আমাদের কালে।”
উত্তর:
প্রসঙ্গ: আলোচ্য অংশটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘আমার ছেলেবেলা’ নামক স্মৃতিচারণমূলক রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে। লেখিকা তাঁর ছোটবেলায় পাওয়া একটি সামান্য উপহারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ কথা বলেছেন।
ব্যাখ্যা: লেখিকা তাঁর সেজদার কাছ থেকে পুরস্কার হিসেবে একটি মোটকা রুলটানা খাতা পেয়েছিলেন। উপহারটি খুব দামী না হলেও, সেটি ছিল লেখিকার অত্যন্ত প্রিয় বস্তু। সেজদা যে তাঁর মনের সুপ্ত ইচ্ছাটি বুঝতে পেরে ঠিক সেই জিনিসটিই উপহার দিয়েছিলেন, এতেই লেখিকা অভিভূত হয়েছিলেন। তখনকার দিনে উপহারের আর্থিক মূল্যের চেয়ে তার পেছনের আন্তরিকতা ও স্নেহ-ভালোবাসাটাই বড় ছিল। উপহারদাতার ভালোবাসা অনুভব করতে পারাটাই ছিল সেই সময়ের শিশুদের বিশেষ গুণ।
খ- ভাষা-অধ্যয়ন (ব্যবহারিক ব্যাকরণ)
৭। তোমরা নীচের শব্দগুলোর অর্থ লিখে বাক্য রচনা করো:
কুজন (অসৎ লোক): কুজন-এর সঙ্গ ত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কূজন (পাখির ডাক): ভোরের বেলা পাখির কূজন শুনতে ভালো লাগে।
অর্থ (টাকা/মানে): অনর্থক অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটো না।
অর্ঘ্য (পূজার উপকরণ): ভক্তরা দেবীর পায়ে অর্ঘ্য নিবেদন করল।
লক্ষ (সংখ্যা বিশেষ): সভায় প্রায় এক লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিল।
লক্ষ্য (উদ্দেশ্য): জীবনে বড় হওয়ার লক্ষ্য থাকা উচিত।
বিত্ত (সম্পদ): বিদ্যা হলো এমন বিত্ত যা কেউ চুরি করতে পারে না।
বৃত্ত (গোলাকার ক্ষেত্র): জ্যামিতি ক্লাসে শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকলেন।
কমল (পদ্ম): দিঘির জলে লাল কমল ফুটেছে।
কোমল (নরম): শিশুটির গায়ের চামড়া খুব কোমল।
৮। নীচের শব্দগুলোর দুইবার প্রয়োগ করে বাক্য রচনা করো:
ভালোয় ভালোয়: তারা ভালোয় ভালোয় বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে।
ঘরে ঘরে: ঈদের খুশিতে আজ ঘরে ঘরে আনন্দ।
হাতে হাতে: চোরটি পুলিশের কাছে হাতে হাতে ধরা পড়ল।
৯। শব্দদ্বৈত (টিফিন-ফিফিন ধরনের তিনটি জোড়া শব্দ):
বই-টই: পরীক্ষার আগে একটু মন দিয়ে বই-টই পড়ো।
চাকরি-বাকরি: ছেলেটা পড়াশোনা শেষ করেছে, এখন একটা চাকরি-বাকরি পেলেই হয়।
কাপড়-চোপড়: আলমারিতে কাপড়-চোপড় গুলো গুছিয়ে রাখো।
১০। (ক) পুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব সর্বনাম বা বিশেষ্য পদ দিয়ে বক্তা (আমি), শ্রোতা (তুমি) বা অন্য কোনো উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে (সে/রাম) বোঝানো হয়, তাকে পুরুষ বলে।
উদাহরণ: আমি, তুমি, সে।
(খ) পুরুষ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: পুরুষ তিন প্রকার। যথা—
১. উত্তম পুরুষ (যেমন: আমি, আমরা)
২. মধ্যম পুরুষ (যেমন: তুমি, তোমরা, আপনি)
৩. প্রথম পুরুষ (যেমন: সে, তারা, তিনি, বা যেকোনো নাম) 
(গ) বিশেষ্য পদ কোন পুরুষের শ্রেণিভুক্ত? উদাহরণ দাও।
উত্তর: বিশেষ্য পদ ‘প্রথম পুরুষ’-এর শ্রেণিভুক্ত।
উদাহরণ: আকাশ, নদী, হিমালয়, রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি। 
১১। নীচের বাক্যগুলোয় ব্যবহৃত বিশেষ্য ও সর্বনামের পুরুষ নির্দেশ করো:
(ক) আশাপূর্ণা দেবী একজন লেখিকা ছিলেন।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী – প্রথম পুরুষ।
(খ) তিনি নিজের ছেলেবেলার কথা লিখেছেন।
উত্তর: তিনি – প্রথম পুরুষ।
(গ) আমার মা তাঁর অনেক উপন্যাস পড়েছেন।
উত্তর: আমার – উত্তম পুরুষ; মা – প্রথম পুরুষ; তাঁর – প্রথম পুরুষ।
(ঘ) ফাউন্টেন পেনকে বলা হত ঝরনা কলম।
উত্তর: ফাউন্টেন পেন – প্রথম পুরুষ; ঝরনা কলম – প্রথম পুরুষ।
(ঙ) তোমাদের দেখি কিছুই ভালো লাগেনা।
উত্তর: তোমাদের – মধ্যম পুরুষ।
(চ) আমি বই পড়তে ভালোবাসি।
উত্তর: আমি – উত্তম পুরুষ; বই – প্রথম পুরুষ।
গ- জ্ঞান-সম্প্রসারণ
(শিক্ষার্থীদের নিজেদের করার জন্য, নমুনা দেওয়া হলো)
১৩। উৎসব বা পালা-পার্বণ নিয়ে অনুচ্ছেদ:
আমি আমার উৎসবগুলো খুব আনন্দের সাথে পালন করি। ঈদের দিন সকালে নতুন জামা পরে নামাজ পড়তে যাই। এরপর বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি করি এবং বড়দের সালাম করে সেলামি নিই। বাড়িতে নানা রকম সুস্বাদু খাবার রান্না হয়, বিশেষ করে সেমাই আমার খুব প্রিয়। পূজার সময় বা অন্যান্য উৎসবেও বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াই। সবাই মিলে আনন্দ করার মধ্যেই উৎসবের সার্থকতা।
১৪। একালের যানবাহনের সমস্যা:
বর্তমানে যানবাহনের সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক বড় ভোগান্তি। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে রাস্তায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে সময়ের অপচয় হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়। এছাড়া পুরনো গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করছে। শব্দ দূষণও একটি বড় সমস্যা। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের হাঁটতে অসুবিধা হয়। ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
১৫। পাওয়া প্রিয় উপহার:
আমার পাওয়া প্রিয় উপহার হলো একটি গল্পের বই। গত জন্মদিনে আমার বাবা আমাকে এটি দিয়েছিলেন। বইটির নাম ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। বইটির মলাট খুব রঙিন এবং ভেতরে সুন্দর সুন্দর ছবি আছে। বইটিতে রূপকথার অনেক মজার মজার গল্প আছে। অবসর সময়ে বইটি পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এই উপহারটি আমার কাছে খুব মূল্যবান কারণ এটি আমাকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। আমি বইটিকে খুব যত্ন করে আমার পড়ার টেবিলে সাজিয়ে রেখেছি। এটি আমার বাবার ভালোবাসার প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *