আমাদের অধিকার
পাঠ – ১৪ : আমাদের অধিকার
পৃষ্ঠা ১১৫ (কার্যকলাপ)
প্রশ্ন: আগের পৃষ্ঠায় উল্লেখিত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে কি বুঝতে পারলে?
উত্তর: এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে, পাহাড়ি অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো নয়, যার ফলে সেখানে জনবসতি ও বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম।
এই সব অঞ্চলের অনেক অভিভাবক অশিক্ষিত এবং শিশুর অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নন।
তাই, বিশেষ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে বাড়ির বা খেতের কাজে লাগানো হয়।
প্রশ্ন: বাসে যাবার সময় বিপুলরা খেতে কী কী দেখতে পেয়েছিলো?
উত্তর: বাসে যাওয়ার সময় ওরা দুটি শস্য খেত দেখতে পেলো।
সেই খেতে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই চাষের কাজে নিযুক্ত ছিলো।
প্রশ্ন: তাদের দেখতে যাওয়া বিদ্যালয়টিতে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে কম কেনো?
উত্তর: বিদ্যালয়টিতে মেয়েদের সংখ্যা কম কারণ –
এটি একটি পাহাড়ি অঞ্চল এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক নয়।
এখানকার অভিভাবকেরা বেশিরভাগই অশিক্ষিত এবং শিশুর অধিকার সম্বন্ধে সচেতন নন।
পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বাবা-মা দুজনেই কাজে যান, এবং ছোট ভাই-বোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব পরিবারের মেয়েদের ওপর পড়ে।
এই কারণেই মেয়েরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে খেতে কাজ করে বা ভাই-বোনদের সামলায়।
প্রশ্ন: লিঙ্গবৈষম্য ভাব থাকলে আমাদের কি কি অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়?
উত্তর: লিঙ্গবৈষম্য ভাব থাকলে সমাজে অনেক অসুবিধা হয়, যেমন –
মেয়েরা শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
মেয়েরা স্বাবলম্বী হতে পারে না।
ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সমাজের সার্বিক উন্নতি বাধা পায়।
অনেক মেয়েকে অল্প বয়সেই বাড়ির কাজে বা অর্থের জন্য বাইরে কাজে যোগ দিতে হয়।
—
পৃষ্ঠা ১১৬ (ভেবে বলো)
(এই প্রশ্নগুলির উত্তর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আলাদা হবে।)
প্রশ্ন: তোমার মা বাড়িতে কি কি কাজ করেন?
উত্তর: (শিক্ষার্থী নিজের মায়ের কাজের বিষয়ে লিখবে, যেমন – রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় কাচা ইত্যাদি।)
প্রশ্ন: তোমার বাবা বাড়িতে কি কি কাজ করেন?
উত্তর: (শিক্ষার্থী নিজের বাবার কাজের বিষয়ে লিখবে, যেমন – বাজার করা, বাইরের কাজ করা, বা বাড়ির কাজে সাহায্য করা ইত্যাদি।)
প্রশ্ন: তুমি কি কখনো মায়ের কাজ বাবাকে এবং বাবার কাজ মাকে করতে দেখেছো?
উত্তর: (শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা “হ্যাঁ” বা “না” এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে লিখবে।)
প্রশ্ন: তোমার আশপাশে বিদ্যালয়ে যায় না এমন কোনো মেয়ে আছে কি? যদি থাকে তার কারণ জানবার চেষ্টা করো।
উত্তর: (শিক্ষার্থী তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে লিখবে। যদি এমন কোনো মেয়ে থাকে, তার কারণ হতে পারে – পরিবারের আর্থিক অনটন, ছোট ভাই-বোনের দেখাশোনা, বা পরিবারের অসচেতনতা।)
—
পৃষ্ঠা ১১৭ (অনুশীলনী)
১। উত্তর লেখো –
(ক) লিঙ্গবৈষম্য মানে কী?
উত্তর: লিঙ্গবৈষম্যের অর্থ হল ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ভেদাভেদ।
(খ) শিশুর অধিকার বলতে কী বোঝো?
উত্তর: শিশুর অধিকার বলতে বোঝায় শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, সুরক্ষা পাওয়া এবং শিক্ষালাভের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারকে।
যেমন, ৬ থেকে ১৪ বছরের সকল শিশুর বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে।
(গ) শিশুর অধিকার সংরক্ষণের জন্য বহাল দুইটি আইনের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: শিশুর অধিকার সংরক্ষণের জন্য বহাল দুইটি আইন হলো –
১। শিশুদের বাধ্যতামূলক বিনামূল্যের শিক্ষার আইন (২০০৯)
২। শিশু শ্রমিক আইন (১৯৮৬)
(ঘ) অসমে শিশু সুরক্ষা দিবস কোন তারিখে পালন করা হয়?
উত্তর: অসম সরকারের অধিসূচনা মতে ৪ মার্চ তারিখটি অসমে ‘শিশু সুরক্ষা দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়।
—
২। শূন্যস্থান পূরণ করো –
(ক) বাসে যাওয়ার সময় ছাত্র-ছাত্রীরা দুইটি শস্য খেত দেখলো।
(খ) ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়টির প্রাতঃসভাতে অংশগ্রহণ করেছিলো।
(গ) আমাদের দেশের সরকার ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে শিশু শ্রমিক আইন প্রণয়ন করেন।
(ঘ) ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে শিশুদের বাধ্যতামূলক বিনামূল্যের শিক্ষার আইন প্রবর্তন করা হয়।
—
৩। শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয় করো –
(ক) বিপুলদের দেখা বিদ্যালয়টিতে মেয়েদের সংখ্যা যথেষ্ট ছিলো।
উত্তর: অশুদ্ধ
(খ) সেই অঞ্চলটির জনবসতি কম ছিলো।
উত্তর: শুদ্ধ
(গ) লিঙ্গবৈষম্য হচ্ছে, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ভেদাভেদ।
উত্তর: শুদ্ধ
(ঘ) মালালা ইউসুফযাই একজন ভারতীয় মহিলা।
উত্তর: অশুদ্ধ (তিনি পাকিস্তানের বাসিন্দা)
