চতুর্থ অধ্যায়: অসমের ভূগোল-এর অনুশীলনী প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
অনুশীলনী সমাধান
১। অসমের ভূ-প্রাকৃতিক ভাগগুলো কী কী?
উত্তর: অসমের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।
বরাক উপত্যকা।
কার্বি মালভূমি।
বড়াইল এবং দক্ষিণের পর্বতশ্রেণি।
২। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলো কী কী?
উত্তর: সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে চারটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
ক) উত্তরের পাদদেশ অঞ্চল।
খ) ব্রহ্মপুত্রের উত্তর এবং দক্ষিণ পাড়ের সমভূমি অঞ্চল।
গ) ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমি।
ঘ) চরাঞ্চল ও দক্ষিণের পাদদেশ।
৩। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর এবং দক্ষিণ পাড়ের প্রত্যেকের চারটি করে প্রধান উপনদীর নাম লেখো।
উত্তর: নথিতে উল্লিখিত ব্রহ্মপুত্র নদের উপনদীগুলো হলো:
উত্তর পাড়ের চারটি প্রধান উপনদী: সোবনশিরি, জিয়াভরলি, মানস এবং সিয়াং ।
দক্ষিণ পাড়ের চারটি প্রধান উপনদী: বুড়িদিহিং, দিসাং, দিখৌ এবং ধনশিড়ি ।
৪। ব্রহ্মপুত্রের সমভূমি অঞ্চলটি বর্ণনা দাও।
উত্তর: ব্রহ্মপুত্রের সমভূমি অঞ্চল বলতে এর উত্তর এবং দক্ষিণ পাড়ের বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে বোঝায়।
গঠন: এই সমভূমি ব্রহ্মপুত্র এবং তার অসংখ্য উপনদী দ্বারা বাহিত পাথর, বালি এবং কাদা জমে সৃষ্টি হয়েছে।
বিস্তৃতি: উত্তর পাড়ের সমভূমি ভাটি অংশে প্রায় ৩০ কি.মি. এবং উজান অংশে প্রায় ১০ কি.মি. প্রশস্ত। দক্ষিণ পাড়ের সমভূমি মেঘালয় মালভূমির জন্য কামরূপ ও গোয়ালপাড়ায় সংকীর্ণ হলেও পূর্ব দিকে গোলাঘাট ও শিবসাগরে বেশ প্রশস্ত।
বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চল পলিযুক্ত উর্বর মাটি দ্বারা গঠিত, যা চাষবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং এখানে জনবসতি বেশ ঘন।
৫। ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমি অঞ্চলটির বিবরণ দাও।
উত্তর: ব্রহ্মপুত্রের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের সমভূমির মধ্যবর্তী এলাকায় যেখানে অবিরত বা মাঝে মাঝে বন্যা হয়, সেই অঞ্চল এবং নদীর বক্ষদেশের চরাঞ্চলকে প্লাবনভূমি বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই প্লাবনভূমি সব জায়গায় সমান প্রশস্ত নয়। উত্তর পাড়ের ধেমাজি ও বড়পেটা জেলায় অসংখ্য বিল ও জলাশয় দেখা যায়। দক্ষিণ পাড়ে প্লাবনভূমি সংকীর্ণ হলেও নদীর মোহানা অঞ্চলে কিছুটা প্রশস্ত।
সক্রিয় প্লাবনভূমি: ব্রহ্মপুত্র নদের সোঁতাগুলোকে নিয়ে এর মধ্যবর্তী চরাঞ্চলকে সক্রিয় প্লাবনভূমি বলে। নদীর বুকে ৬০০-র বেশি ছোট-বড় বালিচর আছে।
৬। মাজুলির ভৌগোলিক অবস্থান এবং সৃষ্টি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: মাজুলি হলো ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে সৃষ্ট পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ একটি স্থায়ী নদী-দ্বীপ।
সৃষ্টি: ব্রহ্মপুত্র নদের অবিরত খনন, পরিবহন এবং অবক্ষেপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সুবিশাল দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
অবস্থান ও তথ্য: ২০১১ সালের লোকগণনা অনুসারে এর জনসংখ্যা ১.৬৮ লাখ এবং আয়তন ৪২২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১৬ সালে মাজুলিকে একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা এবং ভূমিস্খলন মাজুলির প্রধান সমস্যা, যার ফলে এর আয়তন প্রতি বছর হ্রাস পাচ্ছে।
৭। বরাক উপত্যকার চার সীমা এবং বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
উত্তর: বরাক উপত্যকা বরাক সমভূমি এবং এর সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণের পাদদেশ অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
সীমা: এর উত্তরে মেঘালয় মালভূমি এবং বড়াইল পর্বতশ্রেণি; পূর্বে মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চল; দক্ষিণে মিজো পাহাড় এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সমভূমি অবস্থিত।
বৈশিষ্ট্য: বরাক নদী কাছাড় জেলার মধ্য দিয়ে এবং হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ জেলার উত্তর সীমান্ত বরাবর প্রায় ২২৫ কি.মি. প্রবাহিত হয়েছে। নদী ও তার উপনদী বাহিত পলি দ্বারা এই সমভূমি অত্যন্ত উর্বর।
৮। কার্বি মালভূমির চার সীমা এবং বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
উত্তর: কার্বি মালভূমি মূলত মেঘালয় মালভূমিরই একটি অংশ।
বৈশিষ্ট্য ও ভাগ: কপিলি উপত্যকা এই মালভূমিকে পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুটি খণ্ডে ভাগ করেছে।
পূর্ব খণ্ড: এটি আকারে বড় এবং রেংমা পাহাড়কে জুড়ে ডিফু ও বোকাজান মহকুমা পর্যন্ত বিস্তৃত।
পশ্চিম খণ্ড: এটি হামরেন মহকুমা জুড়ে অবস্থিত এবং এর গড় উচ্চতা ৯০০ মিটার।
ঢাল: পশ্চিম খণ্ডটি দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ঢালু।
৯। বড়াইল এবং দক্ষিণের পর্বতশ্রেণির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
উত্তর: বড়াইল পর্বত নাগাল্যান্ডের তুয়েনসাং থেকে পশ্চিম দিকে বিস্তৃত হয়ে অসমের ডিমা হাসাও জেলায় প্রবেশ করেছে।
সংযুক্তি: এটি পূর্বদিকের নাগাপাহাড় এবং পশ্চিমের মেঘালয় মালভূমিকে সংযুক্ত করেছে।
জলবিভাজিকা: এটি উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চলকে দুটি অংশে ভাগ করেছে—উত্তর ঢালটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এবং দক্ষিণ ঢালটি বরাক উপত্যকার অন্তর্গত। উত্তর দিকের ঢাল দক্ষিণ দিকের ঢালের তুলনায় কিছুটা নিচু।
১০। অসমের জলবায়ু কোন প্রকারের জলবায়ুর অন্তর্গত?
উত্তর: অসম ভৌগোলিক ভাবে উপক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত।
১১। গ্রীষ্মকালতে অসমে বৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতশ্রেণি এবং দক্ষিণের মেঘালয় মালভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ (Orographic) এবং চক্রবাত (Cyclonic) প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
১২। অসমের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: অসমের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
ক) গ্রীষ্মকালে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে শুষ্ক অবস্থা।
খ) বছরভর অত্যধিক আর্দ্রতা এবং অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণতা।
গ) গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা ৩৫° সে. এবং শীতকালে ৭০ সে. পর্যন্ত হয়।
ঘ) রাজ্যে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০ সে.মি.।
ঘ) মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
১৩। অসমের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয় এমন স্থান দুটির নাম ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ লেখো।
উত্তর: সারণি ৪.১ অনুসারে:
সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: উত্তর লখিমপুর (৩৩৫ সে.মি.)।
সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: লামডিং (১২৯ সে.মি.)।
১৪। অসমের চারটে জলবায়ু ঋতু কী কী? তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।
উত্তর: অসমের চারটি প্রধান ঋতু হলো:
প্রাক্-মৌসুমি (মার্চ-মে): ধীরে ধীরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, বিকেলে ধুলোঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হয়।
মৌসুমি (জুন-সেপ্টেম্বর): এটি রাজ্যের বর্ষাকাল। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বছরের মোট বৃষ্টির ৭০% এই সময়ে হয়।
প্রত্যাবর্তিত মৌসুমি (অক্টোবর-নভেম্বর): বর্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত হ্রাস পায়। রাতে ও সকালে কুয়াশা পড়ে।
শুষ্ক শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি): উষ্ণতা ১০° সে.-এর নিচে নেমে যায়। আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক থাকে এবং সকালে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়।
১৫। অসমের সকল স্থানে সমান পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয় না কেন?
উত্তর: অসমের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি এবং পাহাড়ের নাব্যতার তারতম্যের কারণে সব জায়গায় সমান বৃষ্টি হয় না। হিমালয় পাদভূমি এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হয়, কিন্তু পাহাড়ের অনুবাত (leeward) অঞ্চলে (যেমন লংকা-লামডিং) বৃষ্টির পরিমাণ অনেক কমে যায়।
১৬। অসমের বৃষ্টিপাতের স্থানিক বণ্টন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: অসমের বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য স্থানিক তারতম্য দেখা যায়। উজান অসম (তিনিসুকিয়া, ডিব্রুগড়), নিম্ন অসম (কোকরাঝাড়, ধুবুড়ি) এবং দক্ষিণ অসমের (কাছাড়, করিমগঞ্জ) জেলাগুলোতে বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ২৫০ সে.মি.-এর বেশি হয়। বিপরীতে, মধ্য অসমের নগাঁও এবং কার্বি আংলং জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ যথেষ্ট কম (নগাঁওয়ের লংকায় গড় বৃষ্টি ১২৯ সে.মি.)।
১৭। অসমে উপলব্ধ মৃত্তিকার প্রকার সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
উত্তর: অসমে প্রাপ্ত মৃত্তিকাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়:
ক) পলিমাটি: ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি নতুন ও পুরনো—এই দু’রকমের হয়।
খ) গিরিপাদ মৃত্তিকা:উত্তরের হিমালয় পাদদেশের ভাবর ও তরাই অঞ্চলে দেখা যায়।
গ) পাহাড়ি মৃত্তিকা: দক্ষিণের পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি রাঙা বালি এবং রাঙা পলিযুক্ত—এই দুই প্রকারের হয়।
ঘ) কঙ্কর বা লেটেরাইট মৃত্তিকা: প্রধানত ডিমা হাসাও এবং কার্বি আংলং জেলার দক্ষিণ অংশে পাওয়া যায়।
১৮। অসমে মৃত্তিকার অবক্ষয়ের কারণসমূহ কী কী বর্ণনা করো।
উত্তর: মৃত্তিকার অবক্ষয়ের প্রধান কারণগুলো হলো:
প্রাকৃতিক: পাহাড়ের ঢালে ভূমিক্ষয় এবং সমভূমিতে কৃত্রিম জলবদ্ধতা (water logging)।
মানবসৃষ্ট: নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈজ্ঞানিক ভাবে ‘জুম চাষ’ করা, চাষের জমিতে অত্যাধিক রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের ফলে কৃত্রিম বন্যা।
১৯। বর্তমান অসমের জনসংখ্যা কত?
উত্তর: ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী অসমের মোট জনসংখ্যা ৩১.১৬ নিযুত বা ৩.১১ কোটি।
২০। অসমের অরণ্যকে কী কী ভাগে ভাগ করতে পারি?
উত্তর: অসমের অরণ্যকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ক) ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য।
খ) ক্রান্তীয় অর্ধ-চিরসবুজ অরণ্য।
গ) ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য।
ঘ) নদী-তীরস্থ অরণ্য।
ঙ) ক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য।
২১। বর্ষারণ্য কাকে বলে? অসমের বর্ষারণ্যের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: যেখানে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০০ সে.মি. বা তার বেশি হয়, সেখানে গড়ে ওঠা ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্যকে বর্ষারণ্য (Rain forest) বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই অরণ্য সাধারণত ত্রিস্তরীয় হয়। প্রথম স্তরে হোলোং, মেকাই-এর মতো সুউচ্চ বৃক্ষ থাকে। দ্বিতীয় স্তরে নাহর, গামারি জাতীয় মাঝারি গাছ এবং সর্বনিম্ন স্তরে লতা, বাঁশ ও বেত থাকে।
২২। নদী-তীরস্থ অরণ্যের গুরুত্ব এবং বর্তমান সংকট সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: নদী-তীরস্থ অরণ্য মূলত নদী ও বিলের পার্শ্ববর্তী সজীব ভূমিতে গড়ে ওঠে।
গুরুত্ব: এই অরণ্যে কাজিরঙা, ডিব্রু-সৈখোয়া ও পবিতরার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যান বা অভয়ারণ্য অবস্থিত। এটি জৈব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক।
সংকট: বর্তমানে দ্রুত জনবসতি বৃদ্ধির ফলে এই অরণ্য অঞ্চলগুলো দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
২৩। কাজিরঙা রাষ্ট্রীয় উদ্যানের অবস্থান এবং আয়তন কত লেখো।
উত্তর: সারণি ৪.২ অনুসারে:
অবস্থান: গোলাঘাট, নগাঁও এবং শোণিতপুর জেলা।
আয়তন: ৮৫৮.৯৮ বর্গ কিলোমিটার।
২৪। অসমের রাষ্ট্রীয় উদ্যানগুলোর নাম এবং অবস্থান লেখো।
উত্তর: অসমের পাঁচটি রাষ্ট্রীয় উদ্যান হলো:
কাজিরঙা: গোলাঘাট, নগাঁও ও শোণিতপুর।
মানস: চিরাং ও বাক্সা।
ওরাং: ওদালগুরি ও শোণিতপুর।
নামেরি: শোণিতপুর।
ডিব্রু-সৈখোয়া: ডিব্রুগড় ও তিনিসুকিয়া।
২৫। অভয়ারণ্যগুলো কীভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে লেখো।
উত্তর: অভয়ারণ্যগুলো মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে এবং বন্যপ্রাণীদের (যেমন হাতি, বাঘ, গণ্ডার) নিরাপদ আবাসস্থল প্রদান করে। এগুলো অরণ্যের গাছপালা ও আর্দ্রভূমিকে সুরক্ষিত রাখে, যা রাজ্যের জৈব-বৈচিত্র্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২৬। স্বাধীনতার পরবর্তী কালপর্বে অসমের প্রশাসনিক বিভাগের পরিবর্তন সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় সিলেট অংশটি পূর্ব পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয় এবং অসমের ১১টি জেলা অবশিষ্ট থাকে। তৎকালীন রাজধানী ছিল শিলং। পরবর্তী সময়ে অসম থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে গঠিত হয়:
১৯৬৩ সালে নাগাল্যান্ড।
১৯৭০ সালে মেঘালয়।
১৯৭১ সালে মিজোরাম।
১৯৭৩ সালে অসমের রাজধানী শিলং থেকে গুয়াহাটির দিশপুরে স্থানান্তরিত হয়।
২৭। অসমের বর্তমান জিলাগুলোর নাম এবং সদর স্থানের নাম লেখো।
উত্তর: বর্তমানে অসমে মোট ৩৫ টি জেলা রয়েছে। কয়েকটি প্রধান জেলা ও সদরের নাম হলো:
কামরূপ মহানগর (গুয়াহাটি), নগাঁও (নগাঁও), কাছাড় (শিলচর), মাজুলি (গড়মুর), তিনিসুকিয়া (তিনিসুকিয়া), কার্বি আংলং (ডিফু) ইত্যাদি। (বিস্তারিত তালিকার জন্য সারণি ৪.২ দেখুন)।
২৮। অসমের আয়তন কত? এ রাজ্যের রাজধানী কোথায় অবস্থিত? আয়তন হিসাবে অসমের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ছোটো জিলাটির নাম লেখো।
উত্তর:
আয়তন: ৭৮,৪৩৮ বর্গ কি.মি.।
রাজধানী: দিশপুর (গুয়াহাটি)।
সবচেয়ে বড় জেলা: কার্বি আংলং (১০,৪৩৪ বর্গ কি.মি.)।
সবচেয়ে ছোট জেলা: কামরূপ মহানগর (৯৫৫ বর্গ কি.মি.)।
২৯। ২০১১ সালের লোকগণনা অনুসারে অসমের জনসংখ্যা কত? জনসংখ্যা অনুসারে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোটো জিলাটির নাম লেখো।
উত্তর:
জনসংখ্যা: ৩১.১৬ নিযুত।
জনসংখ্যায় বড় জেলা: নগাঁও (২.৮২ নিযুত)।
জনসংখ্যায় ছোট জেলা: ডিমা হাসাও (২.১৪ লাখ)।
